পর্নোগ্রাফি বিক্রির অভিযোগে গ্রেফতার ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই ঘটনায় তার প্রধান সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুককেও গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রমনা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে।

ডিবির তথ্য অনুযায়ী, সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সুমাইয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট ও সেগুলো বিক্রির বিজ্ঞাপন নজরে আসে। পরে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। মামলায় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ডিবি সূত্র জানায়, গত ১০ আগস্ট নিয়মিত সাইবার নজরদারির সময় সুমাইয়ার ইনস্টাগ্রাম ও টেলিগ্রাম চ্যানেলে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির প্রচারণা নজরে আসে। পরে বিষয়টি নিয়ে প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান শুরু করেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

তদন্তে গোয়েন্দা পুলিশ জানতে পারে, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করে অর্থ সংগ্রহের পর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও সরবরাহ করা হতো। গ্রাহকদের জন্য নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন প্যাকেজও দেওয়া হতো বলে দাবি করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ‘লাইফটাইম প্যাকেজ’ নামে একটি প্যাকেজের মূল্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

বসুন্ধরার ফ্ল্যাটে অভিযান

ডিজিটাল নজরদারির মাধ্যমে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ১১ আগস্ট রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায় ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের একটি দল।

আরও দেখুন  রোদমাখা ছবিতে অর্চিতা স্পর্শিয়া, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যস্ততায়

অভিযান চালিয়ে সুমাইয়া সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে একটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স এবং একটি ওয়ানপ্লাস মোবাইল ফোন জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার সহযোগী খাজা সাকলাইন ফারুকের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর বাড্ডার ‘ঢাকা পপুলার ট্রাভেলস’ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

তদন্তে বাবার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, সুমাইয়া ও তার কয়েকজন সহযোগী মিলে সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে সুমাইয়ার বাবা মো. আবু সাঈদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি, তিনি তার মেয়ের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং তাকে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে ওই কর্মকাণ্ড থেকে পাওয়া অর্থের একটি অংশ গ্রহণ করতেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়গুলো যাচাই হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

যেভাবে নজরে আসে গোয়েন্দা পুলিশের

গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাইবার মনিটরিংয়ের সময় প্রথমে সুমাইয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে আপত্তিকর কনটেন্ট এবং সেগুলো বিক্রির প্রচারণা শনাক্ত করা হয়।

এরপর সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট, যোগাযোগের মাধ্যম ও অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করার পর অভিযান পরিচালনা করে ডিবি।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

রমনা থানায় মামলা

এ ঘটনায় রাজধানীর রমনা মডেল থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর আওতায় মামলা করা হয়েছে।

মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আরও ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তের মাধ্যমে এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং কীভাবে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট তৈরি ও সরবরাহ করা হতো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও দেখুন  399+ শুভ জন্মদিন স্ট্যাটাস, শুভেচ্ছা ক্যাপশন ও দোয়া 2026

তিন দিনের রিমান্ড আবেদন

ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে গ্রেপ্তার সুমাইয়া সাঈদ ও খাজা সাকলাইন ফারুককে আদালতে হাজির করে তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই করে এই কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট সরবরাহ, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষে এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান থাকায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Leave a Comment