সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিকৃত ছবি ছড়ানো নিয়ে ক্ষুব্ধ ঢাবি শিক্ষক মোনামী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামীর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। নিজের ছবি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক পোস্ট ও শেয়ার হওয়ায় মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই শিক্ষক।

সম্প্রতি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোনামীর নামে বেশ কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়ে। এসব ছবির কয়েকটি সম্পাদিত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি বলে বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রিউমর স্ক্যানার ও ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে মোনামীর নামে প্রচারিত কয়েকটি ছবিকে ভুয়া, এআই-নির্মিত বা সম্পাদিত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মোনামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অসন্তোষের কথা জানান। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার ছবি বিকৃত করে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, পেজ ও গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি এসব পোস্টে তাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্যও করা হচ্ছে।

এর আগে ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে এ ধরনের ছবি ও মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগে শাহবাগ থানায় মামলা করেন মোনামী। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। শাহবাগ থানার পুলিশ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, কয়েকজন ব্যক্তি মোনামীর ছবি সম্পাদনা করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন এবং অন্যরা সেই ছবি শেয়ার বা পোস্টের মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। এজাহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ফেসবুক পোস্ট, আইডি ও স্ক্রিনশটও যুক্ত করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোনামী বলেন, ক্রমাগত তার ছবি এডিট করে অশালীনভাবে পোস্ট করা এবং কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের কারণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেই তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

ভাইরাল ছবিগুলো নিয়ে যা জানা গেছে

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোনামীর নামে ছড়িয়ে পড়া সব ছবি যে তার আসল ছবি নয়, তা বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। রিউমর স্ক্যানারের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, মোনামীর ছবি দাবি করে প্রচারিত কিছু ছবিতে অন্য ব্যক্তির মূল ছবি ব্যবহার করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মুখ বা অন্যান্য অংশ পরিবর্তন করা হয়েছে।

আরও দেখুন  199+ সাম্প্রতিক সাধারণ জ্ঞান ২০২৬ বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়

অন্য একটি অনুসন্ধানে মোনামীর নামে ছড়ানো কয়েকটি ছবি বিশ্লেষণ করে সেগুলো এআই প্রযুক্তিতে তৈরি বলে শনাক্ত করা হয়। ছবিগুলোতে গুগলের জেমিনি এআইয়ের জলছাপও পাওয়া যায় বলে ডিসমিসল্যাব জানিয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের মার্চেও মোনামীর নামে আরেকটি সম্পাদিত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানোর ঘটনা সামনে আসে। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে সেটিও তার ছবি নয় বলে নিশ্চিত করা হয়।

ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া এবং মিথ্যা তথ্য প্রচারের এমন ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে বাস্তব ছবি ও কৃত্রিমভাবে তৈরি বা সম্পাদিত ছবির পার্থক্য করা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

Leave a Comment